বাংগালি শিক্ষিতরা গিয়ানজাম লাগ্লে এক পর্যায়ে বাংলা থুইয়া খাঁটি ব্রিটিশ এক্সেন্টে ঝগড়া শুরু করে । এইটা হইছে তর্কে না পাইরা ইংরাজি বইলা ভয় দেখানির ধান্ধা । সামনা-সামনি উদাহরণ না পাইলে টকশোগুলি দেখতে পারেন ; ফেসবুকের ঝগড়াগুলাও দেখতে পারেন । জ্ঞানের আলোযে বাংলারচে ইংরাজিতে উজ্জ্বল প্রমাণ হইয়া যাইবে ।
শিক্ষার দৌড়টা যখন আম্রা ইংরাজি ভাষা দিয়া প্রকাশ করি তখন বুঝতে হবে ব্রিটিশরা আমাগো দেশ শুধু লুট করেনাই ; চেতনা শুদ্ধা লুট করছে । ভাষাতো নিছক ভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের সাথে যোগাযোগ করার মাধ্যম । একাধিক ভাষা জানা বা চর্চা করা ভালো বেশ ভালো ; ফেসবুকে স্টেটাস দেন বাস্তবে বইলা প্র্যাক্টিস করেন ; এই নিয়া আমি সমস্যা দেখিনা । যেহেতু ইংরাজি আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হইয়া গেছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চলাফেরা করতে হইলে এইটা লাগেই । কিন্তু এইটারে ব্যাপক জ্ঞান মনে করা ; যত্রতত্র প্রয়োগ কৈরা চামে বুঝায়ে দেওয়া ''আমি কি হনুরে!'' অথবা কোন চায়ের দোকানের চাকরির ইন্সটারভিউতে ''তুমি ইংরাজি জাননা , অতএব তুমি আধুনিক বিজ্ঞানমনস্ক না , তর চাকরি সেস,যা ভাগ'' দুঃখজনক । দিনশেষে এইটা নিছক ভাষা ; আপনার চিন্তা প্রকাশের মাধ্যম কিন্তু চিন্তা না । যেমন ধরা যাক নিউটনের সূত্র । এইটা যেই ভাষাতেই হউক না কেনো ভাষা মুখ্য না ; নিউটন হালায় কি কইছে সেইটাই মুখ্য । কোন ভাষায় কইছে এইটার বেইল নাই । সে যদি সূত্র না কপচায়া ইংরাজিতে ''লুতুপুতুরে , তরে না পাইলে গলাত দড়ি দিয়াম '' লেখতো কেউ বেইল দিতোনা । বেইলটা তার সূত্রের ; ভাষার না ।
প্রশ্ন আসতে পারে - ''হালারপো , তোমার ওয়ালের যত্রতত্র আংরাজি শোভা পায় ।'' উত্তর হচ্ছে ; না সেগুলা আমি লেখিনাই ; হয়তো কোন বই বা ফিল্ম থেকে নেয়া । বাংলা আপনে যতই ইঙ্গরাজিতে অনুবাদ করেন বা ইংরাজি আপনে যতই বাংলাতে অনুবাদ করেন এতে ভাষার সৌন্দর্য নষ্ট হয় ; এজন্য অনুবাদ করিনা । মানুষ ভাষা শিক্ষাই পারেনা ; আর অনুবাদ কুন ছাড় ।
ইংরাজিতে পণ্ডিতি কপচানির চেষ্টা ক্লোজ ছোটভাই মাইকেলেও করছিলো ; পরে দেহে ভিত্রেরতে আহেনা । দুঃখে কপোতাক্ষা নদ লেইখা পুরা মধুসূদন হয়া গেলো ।
আপনি সারাদিন ট্রাই করেন ; শিক্ষার নমুনা ইংলিশে যত্রতত্র দেন । কিন্তু আপনার সৃষ্টিশীলতা ইংরাজিত বাইর হইবেনা , আনন্দটা ইঙ্গরাজিতে পূর্ণ হইবেনা । যেমন আমি গালিবাজ মানুষ । একটা মশা মাইরা ''মানকির পুলা'' বইলা যেই ফিলিংস পাই ; ''সন অফ আ বিচ'' কয়া সেইটা পাইনা ; মনে হয় কি জানি বাল বাকি রইয়া গেছে । জন্মের সময় মানুষ নিছক শরীর নিয়া জন্মায়না ; চেতনা নিয়াও জন্মায় । তাতে থাকে হাজার বছরের জাতিগত বৈশিষ্ট্য , ভাষা । কাজেই ইংরাজি মুল্যবান না ; মূল্যবান সেই ভাষা যেইটায় আপনে নিজের চিন্তা/সৃষ্টিশীলতা পূর্ণরুপে প্রকাশ করতে পারেন । সেইটা যার যার অঞ্চলভেদে ভিন্নভিন্ন ।
No comments:
Post a Comment